সাধারণত আমাদের ঘুম ভাঙত ঘড়ির শব্দে। আর এখন ঘুম ভাঙে বোমা, বিমান হামলা ও গোলার শব্দ শুনে। কথা গুলো বলেছেন ইউক্রেনে আটকে পড়া ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থী ভিপিন যাদব (২৪)।
সোমবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের কারণে ভিপিন ও তাঁর বিদেশি সহপাঠীরা আটকে (বাংকারে) আছেন ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর সুমিতে। গত কয়েক দিন ধরে এই শহরও রয়েছে রুশ বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তুতে।
ভিপিন বলেন, চার থেকে পাঁচ দিন তিনি কোনো খাবার পাননি। তিনি শুধু প্রোটিন পাউডার খেয়ে বাঁচেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকাকালে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে তিনি নিয়ম মেনে ব্যায়াম করতেন। তখন এই প্রোটিন পাউডারও তাঁর ব্যায়াম সংশ্লিষ্ট খাদ্যতালিকায় ছিল। যে খাদ্যাভ্যাস তাঁকে যুদ্ধদিনে বাঁচতে সহায়তা করছে।
ভিপিন বলেন, তাঁর নিজের ও সহপাঠীদের পানি শেষ হয়ে গেছে। এখন পানি জোগাড়ের একটাই উপায় আছে বাংকারের বাইরে গিয়ে তুষার গলিয়ে নিয়ে আসা।
সুমিতে আটকে থাকা আরেক ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থী কৃষ্ণনুন্নি বিবিসিকে বলেন, তাঁরা ইউক্রেন ত্যাগ করার জন্য মরিয়া হয়ে আছেন। সোমবার দিনের শুরুতে তাঁদের সেখান থেকে সড়ানোর একটা প্রচেষ্টা ছিল। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের একটি দল উদ্ধারকারী একটি বাসে করে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু যাত্রার শুরুতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তখন তাঁদের আবার আশ্রয়স্থলে ফিরে যেতে বলা হয়।
রাশিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা কমান্ড সেন্টারের প্রধান মিখাইল মিজিন্তসেভ অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে খারকিভ শহরেই ভারতের ৩ হাজার ১৮৯ জন, ভিয়েতনামের ২ হাজার ৭০০, জর্ডানের ২০০ ও মিসরের ৩০ জন নাগরিক আটকে রাখা হয়েছে। রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেন বাহিনী বেসামরিক নাগরিক ও বিদেশিদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

Leave a Reply